May 3rd, 2015

Ladyসে অনেককাল আগের কথা। যে সময়ের কথা বলছি তখন ফেসবুক বা হোয়াটস আপ ছিল না। যে দেশের কথা বলছি সেখানে আ্ওয়ামী লীগ বা বিএনপিও ছিল না। ছিল রাজতন্ত্র। আর রাজতন্ত্রে যা হয়, রাজা ছিলেন খেয়ালি। উনি নানা রকম নিয়ম করতেন।

একবার নিয়ম করলেন কেও কোন অপরাধ করলে তার বিচার করা হবে সহজে। স্টেডিয়ামের এককোনায় দুইটি ঘরের একটিতে থাকবে বাঘ আর একটিতে থাকবে একজন সুন্দরী (অপরাধী মেয়ে হলে একজন সুন্দর লোক)। সবাই থাকবে। স্টেডিয়ামের অর্ধেক লোক শোকের পোষাক পড়া থাকবে, বাকীরা উৎসবের। তো, অপরাধী যে কোন একটা দরজা খুলবে।

বাঘ বের হলে তো শেষ। আর না হলে – হারে রে রে!!!

মন্ত্রী বললো – মহামহিম। অপরাধী যদি বিবাহিত হয়।

ও নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।

মজার ব্যাপার হল এই আইনের পর দেশে অপরাধ বন্ধই হয়ে গেল।

কিন্তু বিধাতার মনে ছিল অন্য কিছু। রাজার সুন্দরী মেয়ে পড়তো অন্যদেশে। এমআইটি না হার্বার্ড নামে কী একটা জায়গায়। সেবার রাজকন্যে বেড়াতে আসলো।
পড়বি পড় মালির ঘাড়ে। দেখা গেল রাজকন্যা এক সুন্দর পুরুষের প্রেমে পড়ে গেল। কিছুদিনের মধ্যে শুরু হল কানাঘুষা। কারণ ওদের দেখা যাচ্ছে হাতিরঝিলে, টিএসসিতে কিংবা নবান্নতে।

রাজামশাই-এর কানে গেল। রাজাতো রেগে কাঁই। ঔ যুবককে গ্রেপ্তার করার জন্য পরোয়ানা জারি হল। সে সময় ডিজিটাল কোন পদ্ধতি ছিল না। ফলে পরেরদিনই বেচারা যুবক গ্রেপ্তার হয়ে গেল।

তো, বিচার তো সোজা। রাজা ঘোষণা দিয়ে দিলেন। ওমুক দিন স্টেডিয়ামে বিচার হবে। সবাই প্রস্তুত হও। মন্ত্রী খুঁজে পেতে একটি অপরূপ মেয়েও যোগাড় করে আনলো বাঘ ছাড়া অন্য ঘরে রাখার জন্য।

আমরা এই ফাঁকে একটু যুবকের খোঁজ নেই। দেখাগেল তার কোন বিকার নাই। ফূর্তিতে আছে।

ঘটনার দিন। সবাই প্রস্তুত। রাজামশাই বসে আছেন। তাঁর পাশে তার হার্বার্ড পড়ুয়া মেয়ে। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে।

যুবককে নিয়ে আসা হল।

রাজমন্ত্রী যুবকের বিরুদ্ধে রাজকন্যার সঙ্গে প্রেমের অভিযোগ পড়ে শোনালেন। তারপর বিচারের কথা বললেন। বললেন ঐ যে দেখা যায় দুইটি দরজা। তার একটির পেছনে আছে বাঘ। আর একটির পেছনে আছে একজন অপরূপা সুন্দরী। সে দরজা খুলে যা পাবে সেটিই তার শাস্তি বা পুরস্কার (আসলে দুইটাই শাস্তি!)।

যুবক হেটে হেটে রাজা আর রাজকন্যের সামনে আসলো। রাজাবে বাও করলো, আর রাজকন্যার দিকে তাকালো জিঙ্গাষু দৃষ্টিতে। আমরা জানি, রাজকন্যা সে গুটিকয়েক মানুষের একজন যারা জানে কোন দরজার পেছনে কী আছে।

যুবকের দিকে তাকিয়ে আমাদের রাজকন্যা ভূবনভোলানো তার ট্রেডমার্ক হাসি দিল। তারপর আলতো করে নিজের ডান হাত তুললো।

আমাদের যুবক তার সিগন্যাল পেয়ে গেল। গট গট করে হেটে গেল। এবং অবলীলায় ডান দিকের দরজাটা খুলে ফেললো!

….

কী বের হবে? বাঘ না অপরূপা?

জবাবটা জানার আগে আমরা রাজকন্যার মনের একটু খবর নেই।যদি একটি অপরূপা মেয়ে বের হয় তাহলে রাজকন্যার প্রেমের মানুষটি ঐ অপরূপার হয়ে যাবে। রাজকন্যার দয়িত হয়ে যাবে অন্য কারো। যে হাসি দেখে রাজকন্যা তার রাজ পরিচয় ভূলেছে সেটা মালিক হবে অন্য কেও। এটা কী রাজকন্যা মানতে পারে?
কিন্তু যদি বাঘ বের হয়? তাহলে তো আর কোন সম্ভাবনা আর থাকবে না। সব শেষ। অপরূপা হলে রাজকন্যা ছুটিতে আসলে অন্তত তো চোখের দেখা দেখতে পারবে। কিন্তু মরে গেলে কী পারবে?

 

প্রিয় পাঠক, কী মনে হয়? কী বের হবে বাঘ না অপরূপা?

 

 

(এটি একটি পুরানো ক্লাসিক পাজল)

আরও পড়তে পারেন:
উদ্ভাবনের কলকব্জা -১: উদ্ভাবন বৈষম্য???
হ্যাপি ইন্টারনট ডে
দশে মিলে করি কাজ!!!
বই-এর জন্য ভালবাসা
ইশ, বাসটা একদম নতুন আছিল!