October 24th, 2016

asdfবাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার ছেলেমেয়ে কম্পিউটার ও কম্পিউটার সংক্রান্ত পড়ালেখায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে।১০ হাজার সংখ্যাটা কিন্তু নেহায়েৎ কম নয়। সে বিবেচনায় আমাদের দক্ষ কর্মীর ঘাটতি হওয়ার কথা না। কারণ প্রতি বছর ১০ হাজার আইটি গ্র্যাজুয়েটের সংস্থান করার সক্ষমতা আমাদের সেক্টরের নাই। হিসাব অনুযায়ী তাহরে আমাদের দক্ষ কর্মীর উদ্বৃত্ত থাকার কথা।
কিন্তু ঘটনা হলো উল্টো। আমি কয়েকটা হিসাব দেই-
দেশে কম্পিউটার বিজ্ঞানেরর মাস্টার্স চালু হয়েছে ১৯৮৪ সালে (বা তারও আগে) আর স্নাতক ১৯৮৬ সালে। সেই হিসাবে প্রায় ৩০-৩৫ বছরের একটা ঐতিহ্য হওয়ার কথা। বিবেচনা করলে আমাদের দেশে একটা খুব ভাল কনসালটেন্ট পুল থাকার কথা। দেশে সিভিল হোক মেকানিক্যাল হোক বা ইলেকট্রিক্যাল হোক – সবটাতেই অনেক কনসালটেন্ট আছেন। কিন্তু আইটিতে নাই। আসলেই নাই।
বলতে পারেন আইটি কনসালটেন্ট কেন দরকার? দরকার এজন্য যে, যে কোন আইটি প্রজেক্টেই কনসালটেন্ট লাগে। দুই পাশেই লাগে – যার প্রজেক্ট তার যেমন লাগে যে এক্সিকিউট করে তারও লাগে।
এই ঘাটতি সরকার কীভাবে দূর করে – না পারলে বিদেশ থেকে কনসালটেন্ট নিয়ে আসে। আর না হলে একটা বড় কমিটি বানায়। সেই কমিটিতে স্যারদের রাখে। বেসিস বিসিএসের হর্তাকর্তারা থাকে। তারপর কনসালটেন্টের কাজ জোড়াতালি দিয়ে করা হয়। একটা কিছুতো হয়।
এরকম একটা কিছু কদিন আগেও ঠিক ছিল। কারণ আগে আমাদের প্রজেক্টগুলো ছিল ছোট ছোট, কোন প্রজেক্টই বিলিয়ন ডলারের ছিল না। কিন্তু এখনতো আমরা বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্টের কথা ভাবছি।

এখানে স্যারদের ডেকে নিয়ে বা একটা কর্মশালা করে আমরা একটা কিছু দাড় করাই। তারপর সেটা গড়িয়ে দেই। বিদেশী কনসালটেন্টরা এসেও এই ব্যাপারটা শিখে ফেলে তখন কিন্তু আর কিছু করার থাকে না।
কনসালটেন্সির ব্যাপারটা আসলে এমন কোনো বড় ব্যাপার না। কনসালটেন্টদের সিদ্ধান্ত দিতে হয়ে, বুল বা শুদ্ধ যা হোক। এটাতেই বাঙ্গালি মার খেয়ে যায় কারণ সে সবসময় ভাবে আর কেউ এসে সিদ্ধান্ত দিয়ে যাবে।
কনসালটেন্ট তৈরি না হওয়ার পেছনে আরও একটা কারণ হতে পারে একটা ফিক্সড ইনকাম না থাকা। হয়তো এটাও একটা কারণ।

কনসালটেন্টের কথা থাক। এন্ট্রি লেভেলের লোকের কথা ধরা যাক। সুবিনের সঙ্গে আলাপ করে জানলাম আমাদের ছেলে-মেয়েরা কোডিং ভাল হলেও কমিউনিকেশনে এতো খারাপ যে ওয়ার্ল্ড ফাইনালিস্টরাও ইন্টারভিউতে হেরে যাচ্ছে। সুবিনের মতে এর কারণ হলো “পড়তে না চাওয়া”। ইন্টারভিউতে ভাল করতে হলে আসলে প্রচুর পড়তে হয় যেটা করতে অনেকেরই অনীহা। ফলে ইন্টারন্যাশনাল চাকরিতে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা মার খেয়ে যাচ্ছে।

এবার দেখা যাক একেবারে একটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। কলসেন্টার এজেন্ট। দেশে কলসেন্টারের কাজ বাড়ছে সঙ্গে দক্ষ কলসেন্টারের এজেন্ট। এখন দেখা যাচ্ছে শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে পারে এমন ছেল-মেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। যারা টাকাকে বলে ট্যায়া বা পকসওয়াডকে বলে প্যাচওয়ার্ড তাদের দিয়ে আর যাই হোক কাস্টোমার সার্ভিসতো হবে না।
অনেকেই এখন বলবেন – আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা ঠিক করা দরকার। কারণ ওখানে কেবল লিখিত পরীক্ষা হয় কাজে কেও শুদ্ধভাবে কথা বলতে শেখে না। তবে, সেটা অনেক বড় কাজ।
আমরা তো সারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক করতে পারবো না, কিংবা ১০ হাজার গ্র্যাজুয়েটের সবার কমিউনিকেশন স্কিল আগাতে পারবো না। কিন্তু হয়তো বছরে ১৬০০ লোককে কিছু পার্টিকুলার কাজের জন্য তৈরি করার চেষ্টা করতে পারবো।
প্রশ্ন হচ্ছে এমন কিছু করতে হলে কী কী করা দরকার?

(হে হে কনসালটেন্টের অভাব তো তাই ক্রাউডসোর্সিং করে একটা ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা আর কি)

শুভ রাত্রি।

 

 

 

 

আরও পড়তে পারেন:
চাকরি চাই-১: আবেদনের আগে
তারিফের জন্য শত তারিফ
আমার টেকাডা দিয়া গেলি না!!!
দুই'শ কোটির হাতের মুঠোয়!!!
এবার বিলকে টপকালেন অর্তেগা