November 18th, 2015

progএকদিন গিয়েছি আমার এক বন্ধুর বাসায়। বন্ধু আর বন্ধু-পত্নী বাসার বাইরে। ওদের একমাত্র ছেলেটা আমার সঙ্গে গল্প করছে।
– পড়া লেখা পারো।
-হ্যা। পারি। এ বি সি কাঁথা ভরে হেগেছি। কাঁথা গেল ধোপার বাড়ি। আবার এবিসি।

– থাক। থাক। গুনতে পারো?
-পারবো না কেন।  দুই, তিন, চার।

দুই, তিন, চার! বলে কী। আমি ভাবলাম ভুল শুনেছি।

-আবার বল।

-দুই, তিন, চার, পাঁচ

দাড়াও। প্রথম থেকে বল।

– আরে বলছি তো।

এই বলে সে গড় গড় করে বলে গেল – দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, গোলাম, বিবি, সাহেব, টেক্কা!!!

তো, এই হল অবস্থা। যস্মিন দেশে যদাচার।

আর এখন দুনিয়া হচ্ছে ইন্টারনেটের দুনিয়া।

এখানে এ ফর এপল, বি ফর বেটা আর সি ফর সি প্লাস প্লাস!

অনেকেরই ধারণা প্রোগ্রামিং বা কোডিং মনে হয় যারা শুধু প্রোগ্রামার হবে তাদের জন্য। বাস্তবতা কিন্তু সে কথা বলে না। এখন কাজ মানেই প্রবলেম সলভিং। গতানুগতিক ধারার কাজ কিন্তু এখন কমে যাচ্ছে। আর প্রবলেম সলভিং করার জন্য এখন গণিতে যেমন দক্ষ হতে হবে তেমনি কোডিং-এর ধারণাও থাকতে হবে। কোডিং-এর দর্শন হচ্ছে যে কোন সমস্যাকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে সেটিকে সমাধান করা, ছোট ছোট সমাধান জোড়া দিয়ে বড় সমাধানে পৌছানো। দুটো স্কিলই এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এবং অনেকাংশ বাধ্যতামূলক।

আমার বাবা ব্যাংকার ছিলেন। ১৯৯১ সালে রিটায়ার করেন। ওনার প্রায় ৩০ বছরের ব্যাংকিং জীবনে ওনাকে কোনদিন কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়নি। কিন্তু এখন কাওকে কী পাওয়া যাবে ব্যাংকে যিনি কম্পিউটার ব্যবহার করেন না। বলতে পারেন ওয়ার্ড, এক্সেলের সঙ্গে কোডিং-এর কী সম্পর্ক। আছে। কোডিং করা থেকে আপনি কেবল কোডিংটা শিখবেন না, শিখবেন – সেগমেন্টেশন, একুইজিশন, ডুকুমেন্টেশন। এগুলো খুবই দরকারী। প্রবলেম সলভিং তো আছে।

ছোটবেলায় যে, আমরা নানান কিসিমের অঙ্ক করি, সেটা বাস্তব জীবনে কেমন করে কাজে লাগে। যেভাবে লাগে সেভাবেই আপনার কাজে লাগবে কোডিং-এর দক্ষতা। কোডিং শিখতে মনে হয় আবার স্কুলে যেতে হবে। এটা সত্য না। যে দক্ষতার কথা আমি বলছি সেটার জন্য আপনার আর স্কুলে ফিরতে হবে না। কিন্তু দক্ষতাটা আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে যাবে।

আর যারা প্রোগ্রামার হতে চায় তাদের জন্য?
আমি কয়েকটা উদাহরণ দেই – থনঞ্জয় বিশ্বাস শাবিপ্রবিতে পড়ে। এবার থার্ড ইয়ারে মনে হয় উঠবে। হাসান যুবায়ের বুয়েটে পড়ে। কেও এখনো প্রকৌশলী হয়ে বের হয়নি। এরা মোটা অঙ্কের টাকায় “চাকরি” করে, প্রোগ্রামিং-এর চাকরি।

আর একটা কোন বিষয় আপনারা আমাকে দেখাতে পারবেন যেখানে শিক্ষাজীবনে পাঁচ-ছয় অঙ্কের বেতনের চাকরি পাওয়া যায়?
না, যায় না।

আমি একটা স্টার্টআপের কথা জানি। যেখানে ডাইরেক্টরদের একজন এমবিএ এবং অনেক বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি কোম্পানিটা ভেঙ্গে দেন কারণ তার থেকে ১০ বছরের ছোট সিটিও-র বেতন মাত্র ৯০ হাজার টাকা! ওনার বক্তব্য ছিল, আমিই তো এখনো ওতো টাকা বেতন পাই না। কাজে এপস কোম্পানিটি আর টিকতে পারলো না।

কোডিং-এ যে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তা কিন্তু উন্নত দেশগুলো টের পেয়ে গেছে। গেছে বলেই তারা এটার পেছনে লেগে পড়েছে। গত বছর আওয়ার অব কোডের সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখার আহবান জানিয়েছে। একটা স্কুলে গিয়ে নিজেও এক ঘন্টার কোডিং-এ অংশ নিয়েছে। কারণ ২০২০ সালে কেবল আমেরিকাতেই ১০ লক্ষ প্রোগ্রামের সংকট হবে।

আগামী দিনে মাটিকাটার কাজ কিন্তু বিশেষ থাকবে না।

মাটি যদি কাটতেই হয় সেটা প্রোগ্রামিং করেই কাটতে হবে, কোদাল-বেলচা দিয়ে নয়।

আরও পড়তে পারেন:
১০ লক্ষ প্রোগ্রামারের সন্ধানে!!!
কোন প্রোগ্রামিং ভাষা শিখবো?
কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (বই) দিবস!!!
কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬
ডেভেলপারদের পছন্দ - নতুনদের দিশা

Comments

  1. […] সুবিনের পর আরো অনেকেই বই লিখছেন। প্রোগ্রামিং কেন করা দরকার তা নিয়েও আলাপ আলোচনা বাড়ছে। এর মধ্যে […]