February 5th, 2016

1বিশ্ব চলে তথ্যপ্রযুক্তিতে, বিশ্বকে চালায় তথ্যপ্রযুক্তি। আর তথ্য প্রযুক্তিকে চালায় কে?

ঠিক ধরেছেন। প্রোগ্রামাররা। কারণ তারাই প্রোগ্রামটা লিখে, ঠিক করে, কেরামতি করে এবং সেটাকে প্রকাশের ভাষা দেয়। সান মাউক্রোসিস্টেমর অন্যতম উদ্যোক্তা এবং এখনকার ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক এন্ডারসনের ভাষায় – সফটওয়্যার ইজ ইটিং দ্যা ওয়ার্ল্ড”।

কাউকে না কাউকে তো সেই সফটওয়্যার লিখতে হবে। তুমি কেন নও?

প্রোগ্রামার হতে হলে প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে। অনেক ভাষা আছে। কোনটা শেখা দরকার?

বিতর্ক আছে, সাজেশনও আছে। আমরা যখন পড়তে আসি বুয়েটে তখন আমাদের শেখানো হয়েছিল FORTRAN নামের একটা প্রোগ্রমিং ভাষা। এটা দিয়ে মোটামুটি আমরা সবকিছুই করতে পারতাম, তখনকার আমলের যা দরকার ছিল। এটা শেখার সময় আমরা অন্যান্য ভাষা যেমন করে শিখে ঠিক সেভাবে শিখি। মানে প্রথমে নিয়মকানুন, ছোট ছোট স্টেটমেন্ট, কমান্ড এবং পরে ছোট ছোট প্রোগ্রাম হয়ে আমার আন্ডারগ্রাডের থিসিসের প্রোগ্রাম যা কিনা মাত্র ৫০০০ লাইনের ছিল। বুয়েট কম্পিউটার সেন্টার আমার প্রোগ্রাম চালানোর জন্য মাঝেমধ্যে সারারাত খোলা থাকতো!!

পরে যখন চাকরি করতে শুরু করি তখন সি প্রোগ্রামিং ভাষার কথা জানতে পারি। এবং সেই সময় কানিংহাম-রিচির বদৌলতে জানিত পারি “লার্নিং বাই ডুয়িং” মেথড। মানে হল প্রোগ্রামিং শেখার জন্য দরকার প্রোগ্রাম লেখা। হ্যালো ওয়ার্ল্ড দিয়েই এখন সবাই প্রোগ্রামিং শেখে। কর্মজীবনে আমাকে নানান কিছু বাজিয়ে দেখতে হয়েছে তার মধ্যে পার্লের কথা মনে আছে। শিখতে হয়েচি সিকুয়েল যদিও সেটা আলাদা কোন ভাষা নয়।

যাই হোক, নতুন যারা এই লাইনে আসতে চায় তাদের জন্য কোন ভাষা সুপারিশ করা দরকার। কারণ প্রায় all language are equal, but some language are more equal than other!

আমি একবার গিটহাবে একটা আর্টিকেল দেখেছিলাম ভেবেছিলাম নির্বাসটা জানায় দেবো। পরে ঔটা হারায় ফেলি। আজকে বিজনেস ইনসাইডার দেখলাম ১৬টি ভাষার একটা তালিকা দিয়েছে। আমি সেখান থেকে আমার মতো করে ৮টিকে বাছাই করেছি।

১. জাভা : ১৯৯১ সালে স্মার্ট টেলিভিশনের জন্য জাভার আবির্ভাব। ওরাকলের জাভা এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা। একটা কারণ হলো এন্ড্রয়েড এপ এবং ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে এর ব্যপক ব্যবহার।

২. সি : পুরোনোগুলোর অন্যতম। ১৯৭০ সালে রিচির হাত দিয়ে শুরু। ১৯৭৮ সালে এই ভাষার কিংবদন্তীর ম্যানুয়াল “দি সি প্রোগ্রামিং ভাষা” প্রকাশিত হয়।

৩. পাইথন : ১৯৮৯ সালের দিকে শুরু। পাইথন ফ্যানদের মতে পাইথনের কোড সহজে পড়া যায়। কারো কারো মতে শুরু করার জন্য এটি সবচেয়ে ভাল এবং সহজতম।

৪. পিএইচপি : ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং-এর জন্য সবচেয়ে সাধারণ। কারো কারো হিসাবে ওয়েবের এক তৃতীয়াংশই চলে পিএইচপিতে। বড় বড় সাইট যেমন ফেসবুক, ইয়াহু বা ওয়ার্ডপ্রেস পিএইচপিতেই চলে। তবে, অনেক প্রোগ্রামারই পিএইচপিকে দেখত পারে না।

৫. ভিজ্যুয়্যাল বেসিক – গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের জন্য এটা এখনও টিকে আছে বলে আমার মনে হয়। মাইক্রোসফটের ঠেলায় এটি চালু।

৬. জাভা স্ক্রিপ্ট : এটি কিন্তু জাভা নয়। ওয়েবের জন্য দরকার। তবে, ব্রাউজারকে স্লো করে ফেলা এবং নিরাপত্তার ব্যাপার স্যাপার নিয়ে অনেকেই এটির ব্যাপারে সতর্ক থাকেন।

৭. রুবি : পাইথনের মতো ২৪ বছর বয়সী এই ভাষাটিকেও অনেক ডেভেলপার পছন্দ করেন। কোডিং করা ও পড়া দুইটাই সহজ। রেইলস নামে এর একটা ফ্রেমওয়ার্ক আছে যার কারণে ওয়েব এপ্লিকেশন বানানো সহজতর। এই ভাষার অফিসিয়াল মটো হলো – এ প্রোগ্রামার’স বেস্ট ফ্রেন্ড।

৮. সুইফট : এপলের আই ফোনের এপস বানানোর জন্য এই ভাষা। আইবিএম আর এপলের কারণে ২০১৬ সালে এটির মার্কেট শেয়ার আরো বাড়তে পারে।

আমার নিজের মত হলো সি/পাইথন দিয়ে শুরু করা এবং সেটাকে ভেজে খাওয়া। বটম লাইন হলো কোড লিখে দরজা খুলতে পারতে হবে। তাহলে পরে যে কোন ভাষা খুব সহজে শিখে নেওয়া যাবে। কোন সমস্যা হবে না।

বাংলাতে অনে বইপত্র আছে আজকাল। কাজে সেগুলো দিয়েই শুরু করা যাবে।

তো হয়ে যাক।

(আগামীতে পারলে বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং-এর বই, রিসোর্স এসব নিয়ে একটা পোস্ট লিখবো। যদিও আমার মনে হয় সুবিন, মাহবুব এদের অনেক এই সংক্রান্ত ব্লগ/লেখা আছে)

আরও পড়তে পারেন:
আমাদের এডা লাভলেসের খোঁজে
বিডিওএসএন প্রোগ্রামিং বর্ষ ২০১৬
"মন্তব্য পড়ো না"!!!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাবিকাঠি
প্রোগ্রামিং : শিখতে হবে নিজে নিজেই