February 3rd, 2018

২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদনের উপজীব্য হলো আমাদের যুবসমাজ। তিনটি প্রধান বিষয়ের মধ্যে একটি হলো তারা চাকরি না খুঁজে চাকরি দিতে আগ্রহী। যদিও দেশে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ বলে কিছু নেই। এই যেমন ধরুন ট্রেড লাইসেন্স। আইন বলছে “ট্রেড লাইসেন্স” কেবল তারই থাকবে যার কিনা কিছু “বর্গফুট” জায়গা থাকবে।  হায়রে বাংলাদেশ। এখন আর ব্যবসা করার জন্য কোন “অফিস” লাগে না। একটি ওয়েবসাইট আর একটি ল্যাপটপ থাকলেই নিজের উদ্যোগ চালু করে ফেলা যায়। অনেকের তো কোন ওয়েবসাইটই নাই। শুধু ফেসবুক পেজ আছে!
বিশ্ব ক্রমাগত ঢুকে পড়ছে চতুর্ধ শিল্প বিপ্লবের মধ্যে। ফলে এখন বিশ্বের বগ ট্যাক্সি কোম্পানির নিজের কোন ট্যাক্সি নাই, সবচেয়ে বড় “দোকানের” নিজের কোন মজুত নাই। বিশ্বজুড়ে তাই নতনুদের উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা। আমাদের তরুনরাও তাই বসে নেই। উদ্যোক্তার প্রয়োজনীয়তা আর একটি হলো ম্যানেজার তৈরি করা। এটা আমাদের দেশের জন্য খুবই দরকারী। কারণ মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপক না থাকায় আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর বিরাট অংকের টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে প্রথম আলোতে লিখেছি অদক্ষতার খেসারত বেড়েই চলেছে নামে। চার বছর আগে একবার এই বিষয়ে লিখেছিলাম

এতকিছুর মধ্যেও আমাদের উদ্যোক্তারা নিজেরা নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তাদেরই গ্রুপ হলো “চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব”। ২০১১ সাল থেকে এই গ্রুপের সবাই পরস্পরকে তথ্য, সোর্সিং, এক্সপার্টিজ আর কানেকশন দিয়ে সহায়তা করে চলেছে।

তো, এই গ্রুপের উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার জন্য আমি দুইটি বই লিখেছি এইবছর। প্রতিপাদ্য হলো – কেমন করে তারা শুরু করবে? নতুন কিছু করবে নাকি ট্র্যাডিশনাল কিছু ভিন্নভাবে করবে? আইডিয়া খুঁজবে না সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হবে? পূজিপাট্টাই বা তাদের কেমন করে হবে? আবার যখন শুরু করবে তখন কম খরচে কিংবা একেবারে নি:খরচে কীভাবে ভাল বিপনণ করবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করেছি “শরবতে বাজিমাত” ও “গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং” বইতে। এর মধ্যে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিংটা আমি উৎসর্গ করেছি “চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব” গ্রুপের সবাইকে।

২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে বইমেলায় দুটো বই-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় গুলতেকিন খান যার কারণ আমি আবার কবিতা পড়তে শুরু করেছি। এবার তিনি একটি উপন্যাস লিখেছেন। ছিলেন সরকারের বড় কর্মকর্তা যদিও আমার কাছে কবি ও আমার অন্যতম পরামর্শদাতা আফতাব আহমেদ। প্রায় ৩৬ বছর পরে ভাবীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন মমলুক ছাবির আহমদ ভাই। ছাবির ভাই-এর সঙ্গে ইদানীং আমাদের অনেক কাজ। আর আমাদের তারকা উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব। তাদের হাত ধরে উন্মোচিত হলো আমার দুইটি বই। সেখানে আরও ছিল নোভা, আরশাদ, জুয়েল, খালিদ, ইব্রাহিম, মিম! তারিক আর জাহাঙ্গীর আলম শোভনও এসেছে। বই কিনে ফিরেছে।


বই দুইটি পাওয়া যাচ্ছে মেলাতে, প্রকাশক আদর্শ-এর স্টলে। স্টল ৩২৬-৩২৮ নিয়ে তাদের স্টল। এটি মেলার ৬ নম্বর চত্ত্বরে। ঢোকার পর কিছুদূর গিয়ে বামে যেতে হয়। মাওলা ব্রাদার্সের পেছনে ও তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নের আড়াআড়িতে এই স্টলটি।

দুইটি বই-এর দামই ১৫০ টাকা। ২৫% কমিশনে মেলায় বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। বিকাশে কিনলে মনে হয় আরও ছাড় আছে।

দুটো বই নিয়ে আলাদা দুইটি পোস্ট দিয়ে দেবো সহসা।

সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

 

আরও পড়তে পারেন:
বাঘ না অপরূপা?
উদ্ভাবনের কলকব্জা -১: উদ্ভাবন বৈষম্য???
দশে মিলে করি কাজ!!!
জীবনের পরাজয় দেখতে চাই না
বইমেলার বই- ৯ : শরবতে বাজিমাত