February 10th, 2016

Java Printingবিশ্বকে এখন চালায় কী?

তথ্যপ্রযুক্তি। আর তথ্যপ্রযুক্তির প্রাণ ভোমড়া হল কম্পিউউার প্রোগ্রামিং। দু:খজনকহলেও সত্য যে, আমাদের দেশে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে আগ্রহ কম। এমনকী যারা সিএসই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করছে তাদের মধ্যেও। গেল বছর একটা জরিপে আমরা দেখেছি দেশে ৪০ হাজার ছেলেমেয়ে ারা এখন সিএস বা এই সংক্রান্ত পড়াশোনা করছে তাদের মাত্র ৭% প্রোগ্রামিং-এ আগ্রহী। মেয়েদের মধ্যে এই হার ১%-এরও কম।

ngpc1গত দুই বছর ধরে আমরা এই নিয়ে কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি। আইসিটি বিভাগের সঙ্গে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, মেয়েদর জন্য আলাদা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, দেশজুড়ে আওয়ার অব কোড কিংবা পাইথনের বুট ক্যাম্প এসবই আমাদের এক্সপেরিমেন্টাল আয়োজন। এসবে আমরা বেশ ভাল সাড়া পেয়েছি। আমার নিজের ধারণা ঠিকমতো বলতে পারলে, ধরিয়ে দিতে পারলে আমাদের অনেক সুপ্ত প্রতিভাকে আমরা খুঁজে পাবো। সেটাই আমরা করতে চাই।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর ব্যাপারটা কতোটা গুরুত্বপুর্ণ তা টের পাওয়া যায় ক’দিন আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্টেট াব দ্যা ইউনিয়নের ভাষন থেকে। ৩০ জানুয়ারি বাবারক ওবামা সবার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানের আহবান জানিয়েছেন। আমার জানামতে কোন দেশের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক জাতির উদ্দেশ্যে কোন ভাষনে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর কথা বলা এটাই প্রথম। ওবামা অবশ্য গতবারের আওয়ার অব কোডের সময় একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন, নিজে একটা প্রোগ্রামিং ক্লাসে গিয়েছিলেন। বক্তৃতাটা হচ্ছে তার ফলোআপ। লেগে থাকার ব্যাপারে আমেরিকানদের যে একটা সংস্কৃতি আছে এটিও তার একটি প্রমাণ।

প্রোগ্রামিং-এর গুরুত্ব নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। এই লেখাতে আমি তার কিছু বলেছিও। এখন আর দ্বিরুক্তি করতে চাই না। বিশ্বে প্রোগ্রামারের ক্রাইসিস সামনে আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। উন্নত দেশগুলো লক্ষ লক্ষ প্রোগ্রামারের সন্ধান করবে। আমাদেরও না হলে ৫০ হাজারের বেশি প্রোগ্রামারের দরকার হবে ২০-২১ সালের দিকে। কাজে আমাদেরও তৎপর হতে হবে।
গেল বছরের হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আমাদেরকে আবাদেরকে আবার দেখিয়েছে যে ট্যালেন্টরা কিন্তু সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মওদুদ কিংবা শুভদের মতো নিখাদ প্রোগ্রামিং-এর চর্চ্চাকারীদের সংখ্যা আমাদের বাড়াতে হবে।

উদ্বুত্তকরণের জন্য এবার আমরা কয়েকটা ভিডিও তৈরি করেছি এবং কোড ডট অর্গের একটা ভিডিও বাংলা রপান্তরও করেছি।

 

এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক ২০১৬ সালকে প্রোগ্রামিং বর্ষ হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবছর আমরা একটি সমন্বিত চেষ্টা। আমাদের বছরব্যাপী আয়োজনে থাকবে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, কর্মশালা, সেমিনার, জমায়েত, সমাবেশ, প্রোগ্রামিং ইশকুল, প্রশিক্ষণ, বুটক্যাম্প, কোডস্প্রিন্টসহ নানান আয়োজন।প্রকাশ করা হবে বই। হবে টিভি অনুষ্ঠান। ইত্যাদি।

বিভিন্ন গ্রুপ, প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সঙ্গে মিলে আমরা এই কাজ করবো। অন্যদেরকেও এই আয়োজনে শরিক হতে বলবো।

পথে যখন নেমেছি, আমরা চলতে চলতে পথ করে নেবো।

সবার জন্য শুভ কামনা। হ্যাপি কোডিং।

আরও পড়তে পারেন:
উদ্ভাবনের কলকব্জা ৩: দেখতে হবে আশে পাশে
কোন প্রোগ্রামিং ভাষা শিখবো?
বছর জুড়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর নানা আয়োজন
কোডিং ও মডেলিং – দুজনে দু’জনার?
আধুনিক কম্পিউটারের জনক ও তাঁর টেস্ট