November 10th, 2015

887394_903052609743109_7854265847604196911_oবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জীবনের অন্যতম সোনালী দিনগুলো কেটেছে। আহসানউল্লাহ হলে যেদিন প্রথম উঠেছিলাম সেদিন থেকেই একটা হই-চইএর মধ্যে কেটেছে এই জীবন। রুম বরাদ্দের আগে ৪১৫, পরে ১২৭ হয়ে অবশেষে ১১৯ (৪ মাসের মধ্যে)। ১১৯-এ থাকতেন রাফু ভাই – কাজি আনিস উদ্দিন ইকবাল (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিল্ডিং ফর ফিউচার লিমিটেড)। রাফু ভাই পাস করার পর তার জায়গাতে আমি ঢুকি ১১৯-এ। এখানে তখন রুমী ভাই (মাহমুদুজ্জামান রুমী, আমেরিকা প্রবাসী)। রুমী ভাই পাস করে যাওয়ার পর আমাদের রুমমেট হিসাবে আসে ৮৫ ব্যাচের সদা হাস্যময় আবুল কালাম (এখন বড় ব্যবসায়ী)।
আউল্লার ১১৯ নং রুমে আমি, সেলিম আর কালাম থাকতাম। ১২০ এ থাকতো ১৯৮৫ ব্যাচের দিদার (কুইক রেডিও -সোলারিক) আর ১২১ এ টিপু (এম আনোয়ার – আমেরিকায়) আর বাবু (আমেরিকায়)। ১২০-১১৯ হয়ে শহীদ স্মৃতি আর নজরুল ইসলাম হলে যাবার ব্যাপারটা ছিল। আর যারা বাসায় থাকতো তাদের সেশনাল ক্লাস যদি থাকতো বিকেলে তাহলে দুপুরে ১১৯ এ হতো আড্ডা। আমার ব্যাচ আর পড়ার সঙ্গী সাকিব প্রয়শ দুপুরটা শহীদ স্মৃতিতে না গিয়ে এখানেই কাটিয়ে দিত। আমার আর সেরিশের ব্যাচ ৮৪ আর কালামের ব্যাচ ৮৫। ১১৯ সারাদিন-রাত আড্ডাতেই থাকতো।

টিপু-বাবু-কালাম-আর দিদারদের কারনে আমাদের রুমে ৮৫ওয়ালাদের দৌরাত্মই থাকতো বেশি। আর যারা আড্ডা দিতে আসতো তাদের সবাই মোটামুটি স্টার আর স্ট্যান্ড। কেও দুইটা ফার্স্ট অথবা ১টা ফার্স্ট তো আর একটা সেকেন্ড। এই দলেরই একজন হিসাবে আমি প্রথম নাভিদ মাহবুবকে দেখি। গভ  ল্যাব থেকে ১৩ আর পরে এইচএসসিতে ৫ম। জানাশোনার পাশাপাশি ওর উইট আর হিউমার সবসময় আলাদা করে চোখে পড়তো। আর আড্ডায় ওর প্রাণোজ্জ্বল উপস্থিতি।  ৩ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময়ে আমি কখনো ওর গোমড়া মুখ দেখেছি কী না বলতে পারবো না। ওর নানান বিষয়ে আগ্রহ ছিল। পাশ করার পরও ৮৫ ব্যাচের সঙ্গে সখ্যতা ছিল। কাজে এক সময় জানলাম নাভিদ পাড়ি জমিয়েছে স্বপ্নের দেশে।

যাবার আগেই নাভিদ তিনটে বিজ্ঞাপন চিত্রে অংশ নেয়। এর মধ্যে একটা ছিল ফাটাফাটি -পেপসির বিজ্ঞাপন।

আরো দুইটি করেছে।
আমার আর নাভিদের গল্পটা এখানে শেষ হতে পারতো। কিন্তু হলো না।

২০০৯ বা ১০ সালে আমাদের আর এক বুয়েটিয়ান মোজাম্মেল বাবু (একাত্তর টিভি) একদিন একটা পার্টির এরেঞ্জমেন্ট করলেন গুলশানের কোন এক রেস্তোরায়। সেখানে একটি লম্বা মতোন ছেলের সঙ্গে বাবু ভাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন।
-এই যে, নাভিদ। আমেরিকার থন আইসা পড়ছে। এখানে নকিয়ার কান্ট্রি হেড।
আমার একটু সময় লাগলেও ওর অবশ্য তেমন একটা সময় লাগেনি আমাকে চিনতে। তারপর থেকে দেশেই থাকে, যোগাযোগ আছে।
নাভিদ মাহবুব আমেরিকায় থাকার সময় প্রথমে প্রকৌশলে মাস্টার্স করেছে। পরে এমবিএও করেছে।

ভাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েেছে। কতোটা ভাল?
ততোটাই ভাল যতোটা ভাল হলে নকিয়া সিমেন্স যখন নকিয়া-সিমেন্স বাংলাদেশের জন্য একজন প্রধান নির্বাহী খুঁজছিল তখন নাভিদকেই তারা পছন্দ করে। সেই সময় দেশে ফেরার কথা ভাবছিল সে। কাজে নকিয়ার সঙ্গে ব্যাটে বলে মিলেসে ঢাকায় এসেছে।এখানকার ২ বছরের কাজের মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের রবির কন্ট্রাক্টও তার অর্জন। ২০১১ সালে নকিয়া ছেড়ে আইবিএম বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ও সিইও হয় সে। 
এই দুইজায়গায় তার যে সাফল্য তাতে সে আবার আমেরিকায় গিয়ে আরো বড় চাকরি করতে পারতো, অথবা দেশেই মাল্টিন্যাশনাল সিইও ক্লাবে ব্যপকভাবে বিচরণ করতে পারতো। কিন্তু, প্রয়োজনের পেছনে দৌড়ানোটাতো তাঁর কাজ না।  নাভিদ তাঁর হৃদয়ের ডা শুনতে পেয়েছে। 

কাজে সিইওগিরি ছেড়ে দিয়ে সে নিজের একটা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এবং সেটা কোন আইটি প্রতিষ্ঠান নয়!!!!

না, ঠিক, আমি ঠিক বলেছি। নাভিদ কোন আইটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেনি। নাভিদ প্রতিষ্ঠা করেছে নাভিদ কমেডি ক্লাব – একটি কমেটি ক্লাব। হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করা এবং নতুন একটা সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
আমার সঙ্গে নাভিদের বড় পার্থক্য হল আমি যদি এই কাজটা করতাম তাহলে একটা নন-প্রফিট বানাতাম। নাভিদ সেটা করেনি। নাভিদের কমেডি ক্লাব সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম কমেডি ক্লাব যেটা কমার্শিয়ালি কাজ করে, প্রতিষ্ঠান হিসাবে। এরই মধ্যে নাভিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেশ কয়েকজন স্ট্যান্ডিং কমেডিয়ান সফল হয়েছে।
আর দশজন উদ্যোক্তার মত নাভিদও সমাজের একটা সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। সেটার একটা সমাধানও বের করেছে। নতুন একটা অভিনব পদ্ধতিও বের করেছে।
কীসে নাভিদকে তাড়িত করেছে মাল্টিন্যাশনালের মোটা অংকের টাকা (আসলে ডলার) বাদ দিয়ে নিজের একটা প্রতিষ্ঠান গড়তে? কেনই বা প্রকৌশলী হয়ে নাভিদ বেঁছে নিয়েছে উদ্যোক্তার জীবন?
অনেকদিন ধরে নাভিদকে বলেছি তোমার গল্পটা নতুনদের একটু বল। নাভিদ বলে- আমি তো এখনো উদ্যোক্তা হিসবে দারুনভাবে সফল হইনি, চেষ্টা করছি মাত্র।
আমি বললাম সেটাই তুমি বল।
আবুদল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বলেন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।
আর স্বপ্নবান মানুষরাই স্বপ্নকে তাড়া করতে পারে।

গত কিছুদিন ধরে আমরা বিডিওএসএন টক চালুর চেষ্টা করছি। তার প্রথম বক্তা নাভিদের চেয়ে্ভাল আর কে হতে পারে।

নাভিদের সে গল্পই আমরা শুনবো আগামী ১৪ তারিখ সন্ধ্যা ৫.৩০ টায়, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানের ইভেন্ট পেজ

887394_903052609743109_7854265847604196911_o

তারিখ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৫। শনিবার
সময় : বিকাল ৫ঃ৩০ টা থেকে রাত ৮টা
ভেন্যু : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র (২য় তলা), বাংলামোটর, ঢাকা

রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি :
অংশগ্রহণের ফী-১৫০ টাকা।
বিকাশ নাম্বার ০১৭৭০২৯৫১৬৮

বিকাশ করে এই নাম্বারে বিকাশের ট্রানজেকশন আইডি আর নিজের নাম এসএমএস করতে হবে। এরপর এসএমএস টিকেট পাঠানো হবে।
অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য এসএমএসটি মোবাইলে রেখে দিতে হবে।

 

 

 

আরও পড়তে পারেন:
বাঘ না অপরূপা?
হাল ছেড়ো না, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে
প্রয়োজনের পেছনে নয়, স্বপ্নের পেছনে দৌড়াও
‘আমার বেদনা লহ বুঝি’
জীবনের পরাজয় দেখতে চাই না