October 27th, 2015

পর্ব-১৩ : ইয়্যু উইন সাম, ইয়্যু লস সাম-১

deliveryআমাদের ওয়েবসাইট কোম্পানির কয়েকজন গ্রাহক দরকার। আমাদের নিজেদের একটা বুদ্ধি ছিল কীভাবে আমরা আমাদের গ্রাহক যোগাড় করবো্। প্ল্যানটা হল প্রথমে আমরা স্থানীয় চেম্বার অব কমার্সকে তাদের ওয়েবসাইট বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেব, নিখরচায়। তারপর চেম্বারের ব্যবসায়ীদের বলবো – দেখো তোমাদের চেম্বারই তাদের ওয়েবসাইট আমাদেরকে দিয়ে বানিয়েছে। তোমারা চাইলে তোমাদেরটা আমরা বানিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারি। (চামে আমরা চেম্বারের টাকা না দেওয়ার বিষয়টা চেপে যাবো)। ব্যস, আমরা অনেক গ্রাহক (এবং টাকা, মানে ডলার) কামানো শুরু করবো!
কাজে প্রথম কাজ প্রথমে। চেম্বারের সঙ্গে এপয়ন্টমেন্ট। এই কলের জন্য যদিও কোন টাকা লাগে না, কিন্তু এটাই আমার প্রথম সেলস কল। একটু নার্ভাসতো হয়েছি। যাই হোক, ফোন করে দুপুর সাড়ে বারোটায় একটা ক্ষণ ঠিক করলাম। এটা আমার দৈনিক রুটিনের সঙ্গে খুবই মানানসই। দুপুর বেলায় এমনিতে আমারলম্বা সময় হাতে থাকে।

নির্ধারিত দিনে আমি যথার্থই নার্ভাস বোধ করেছি। আমি আগে কখনো কোন সফল সেলস মিটিং করি নাই! আমি বিশ্বাস করতাম – প্রথমে দর্শনধারি, পরে গুন বিচারি। কাজে ঐদিন ১১.৩০ মিনিটে আমি প্রথমে আমার এপার্টমেন্টে ফিরলাম। তারপর সমাবর্তন উপলক্ষে বানানো স্যুট-টাইতে নিজেকে সাজালাম। প্রচুর বিজনেজ কার্ড নিলাম সঙ্গে। কয়েকদিন আগে সঞ্জয় আমাদের কোম্পানির কিছু ব্রশিউর বানিয়েছে। সেগুলোও কিছু নিলাম।
1নিজেকে বোঝালাম আমার কাজ হবে দুইটা

  • চেম্বারকে বোঝাতে হবে ওদের একটা ওয়েবসাইট দরকার। ওয়েবসাইট ছাড়া দুনিয়াটা অন্ধকার
  • আর আমাদেরকে দিয়েই ওদের ওয়েবসাইট বানাতে হবে, কারণ আমরাই সেরা!

কাজটা কঠিন হলেও আমি সফল হলাম। চেম্বারের লোকেরা খুবই রিসেপটিভ ছিল কারণ আমরা সবকিছু একেবারেই ফ্রিতে করে দিচ্ছি।

এর পরের একমাস আমার লাঞ্চটাইম দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হল। আমি প্রায় প্রতিদিনই চেম্বারে যেতাম। কারণ, আমাদের পরিকল্পনা ছিল চেম্বারের মন পাওয়া। কোন ভুল আমরা করতে চাই না। সঞ্জয়ের রাতের ঘুমও হারাম হচ্ছে কারণ সাইট বানানোর কাজটা তার। মানে আমি হচ্ছি সেলস আর কাস্টোমার সাপোর্ট আর সঞ্জয় হল প্রোডাক্ট আর ডিজাইন গাই। একটা চমৎকার টিম!

মাসখানেকের মধ্যে আমরা চেম্বারের ওয়েবসাইট ডেলিভারি করে ফেললাম, ওদের মনোরঞ্জনসহ। এখন আমাদের টাকাওয়ালা গ্রাক দরকার। আমাদের প্রথম টার্গেট হল হিলসাইড মল। মল বেছে নেওয়ার কারণটা সোজা। যদি আমরা এই সুপারস্টোরকে সাইন করাতে পারি তাহলে এর ভেতরের সব সাপ্লায়ারকে গিয়ে বলতে পারবো – দেখো, সুপার মার্কেটের ওয়েবসাইটটা আমরা বানাবো। তোমাদেরটাও আমরা বানাই দিতে পারি।

কাজে পরের কিছুদিন আমি ওরাকলে আরো কম সময় দিলাম (আমার কাজের কিন্তু কোন হেরফের হলো না)। কারণ আমি চারদিকে ব্যবসা খুঁজতে শুরু করলাম।

কয়েকমাসের মধ্যে আমরা হিলসাইড মলকে রাজী করাতে পারলাম।
ওয়েবসাইটের ডিজাইন, ম্যানেজ আর হোস্টিং-এর জন্য তারা আমাদের  দুই হাজার টাকা দিতে সম্মত হল!!!



ওয়াও! আমাদের প্রথম টাকার কাস্টোমার আমরা পেয়ে গেলাম।
কাজে এখন আর আমাদের ওরাকলের বোরিং কাজ করতে হবে না।

আমরা আমাদের চাকরি ছেড়ে দিতে পারি। আমরা আর চাকরি করবো না!!!

পরের পর্ব -পর্ব-১৫: চাকরি ছাড়া কী এতই সোজা?

[জাপ্পোসের সিইও টনি সেই-এর বিখ্যাত বই এবং দর্শন ডেলিভারিং হ্যাপিনেজের মূল ভাবটা আমি আমার মত করে লিখতে শুরু করেছিলাম কয়েকমাস আগে। সে সময় ১৩টা পর্ব লিখেছিলাম। কিন্তু পরে আর বইটাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখন বইটা আবার খুঁজে পেয়ে আবার লিখতে শুরু করলাম। যেহেতু এক একটা ঘটনা বা বিষয় এক পর্বে থাকে, সেই অনুসারে পর্বের দৈর্ঘটা নির্ভর করে। আমার টাইপিং স্পিড খারাপ। বিকল্প কী হতে পারে সেটা ভাবছি। যদি এমন কাউকে পাওয়া যেত যে আমার রেকর্ড করা কথা শুনে কম্পোজ করে দেবে তাহলে হয়তো আর একটু দ্রুত আগানো যেত। দেখি কাউকে পাওয়া য়া কী না।]

আরও পড়তে পারেন:
বিশ্ব তোমার পদতলে
ডেলিভারিং হ্যাপিনেজ - মুনাফার সন্ধানে-২: বেড়ে ওঠা
ডেলিভারি হ্যাপিনেজ ১২ : কলেজের শেষ দিনগুলি
গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং-৩: কাজের জিনিষ কোথায় পাই?
কথা নয়, নেমে পড়